জার্মানি ও ফ্রান্স সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম সারমাট
জার্মানি ও ফ্রান্স সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম সারমাট

জার্মানি ও ফ্রান্স সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম সারমাট

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার দেশ নতুন অস্ত্র তৈরির শিল্পে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে কয়েক দশক এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সামরিক অ্যাকাডেমিগুলো থেকে পাস করা একদল গ্র্যাজুয়েটের সমাবেশে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

পুতিন বলেছেন, আধুনিক অস্ত্রগুলো রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের কিছু কিছু সমরাস্ত্র সিস্টেম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে কয়েক দশক এগিয়ে রয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে তার দেশের ‘অ্যাভানগার্ড’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা তুলে ধরেন যা শব্দের চেয়ে বিশ গুণ দ্রুত গতিতে চলে। এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যাওয়ার সময় আবহমণ্ডলে দিক ও উচ্চতা পরিবর্তন করতে পারে বলে তা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চরম অভেদ্য বা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে বলে পুতিন জানান।

রুশ প্রেসিডেন্ট তার দেশের একটি নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন। এটি দশটিরও বেশি পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং ২২০ টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে।

‘সারমাট’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র সোভিয়েত যুগের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ভয়েভোডা’র চেয়েও বেশি শক্তিশালী। ‘ভয়েভোডা’-কে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বলে মনে করা হতো এবং পাশ্চাত্যে একে বলা হয় ‘স্যাটান’ বা শয়তান। জার্মানি ও ফ্রান্স সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম সারমাট।

পুতিন এমন সময় এসব বক্তব্য রাখলেন যখন রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত দেখা দিলে ন্যাটো জোট হয়তো রাশিয়ার মতো দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতে পারবে না বরং ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়তে পারে।

ভয়ঙ্কর জলজ ড্রোন ও নতুন পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে রাশিয়া
ডেইলি মেইল ও এপি

পানির নিচে চলাচলে সক্ষম এমন একটি ড্রোনের ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এ ছাড়া রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন একটি পরমাণু অস্ত্র পেতে যাচ্ছে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এসব অস্ত্র রাশিয়াকে যেমন অন্য দেশ থেকে সামরিক দিক দিয়ে এগিয়ে নেবে, ঠিক তেমনি অন্য দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে দেবে।

রুশ সেনাবাহিনীর প্রদর্শিত একটি ভিডিওচিত্রে বলা হয়, দুই মেগাটন পরমাণুর ওয়ারহেড যুক্ত এ ড্রোন পশ্চিমা দেশগুলোর বন্দরগুলোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে। শত্রুদের নৌঘাঁটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা পোসেইডন টর্পেডো নামের এই ড্রোন ঘণ্টায় ৭০ নট গতিতে চলতে পারে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন গত মার্চে ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ ভাষণে এই জলজ ড্রোনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তখন তিনি এ পরমাণু অস্ত্রের কথা ঘোষণা করে বলেছিলেন, নতুন এ অস্ত্র শত্রুদের হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ থাকবে। এ অস্ত্রের নেপথ্যে থাকা বিজ্ঞানীদের তিনি প্রশংসা করে ‘আমাদের সময়ের নায়ক’ বলে আখ্যা দেন। মস্কোতে বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে পুতিন বলেছিলেন, অস্ত্রটিতে একটি পরমাণুচালিত ক্রুজ মিসাইল, একটি পরমাণুচালিত জলজ ড্রোন এবং এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে নতুন হাইপারসনিক মিসাইল। এ সময় এগুলোর ভিডিও একটি বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়। ওই ভিডিওতে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লে¬ারিডা অঙ্গরাজ্যের ওপর বৃষ্টির মতো বোমা ফেলা হচ্ছে। ভাষণে পুতিন বলেন, এই নতুন অস্ত্র ন্যাটোর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একেবারেই অর্থহীন করে তুলেছে। 
সেনাবাহিনীর জন্য নতুন পরমাণু অস্ত্র 

এ দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার সোচিতে দেয়া এক বক্তৃতায় বলেন, রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই নতুন পরমাণু পেতে যাচ্ছে। অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন এই অস্ত্র আগামী বছর থেকেই আসা শুরু করবে। আর নতুন সারমাট নামের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করবে। গত মার্চেই পুতিন এই অস্ত্র দু’টির কথা ঘোষণা করেছিলেন। 

পুতিন বলেন, অ্যাভাঙ্গার্ড শব্দের চেয়ে ২০ গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। অতি দ্রুত চলার কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এটিকে দুই হাজার সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। অস্ত্রটি এর গন্তব্য পথে কোর্স ও উচ্চতা দু’টিই পরিবর্তন করতে পারে, যা তাকে যেকোনো মিসাইল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে অভেদ্য করে তুলতে পারে। 

অন্য দিকে সারমাট এর আগে সোভিয়েত আমলে তৈরি করা ভোয়াভোডার স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে। ১০টি পরমাণু ওয়ারহেড বহনকারী ভোয়াভোডা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে শয়তান নামে পরিচিত। পুতিন মার্চে বলেছিলেন, সারমাটের ওজন ২০০ মেট্রিক টন ও এটি ‘শয়তান’-এর চেয়ে অনেক ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং বেশি ওয়ারহেড নিয়ে চলতে পারে। 

এসব অস্ত্রের কারণে রাশিয়া অন্য দেশের চেয়ে কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক এগিয়ে যাবে। এসব অস্ত্র অন্য দেশের দামি প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে অকার্যকর করে তুলবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দেয়া ও যুক্তরাজ্যে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপল এবং তার মেয়েকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা চলার মধ্যেই পুতিন এসব অস্ত্রের ঘোষণা দিলেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.