বাকি সিটি নির্বাচনে নতুন চিন্তা করবে বিএনপি : মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সিটি নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বিএনপি নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি গতকাল এক সভায় বলেন, খুলনায় নির্বাচন করেছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চেয়েও পুলিশ বাহিনী বেশি তৎপর ছিল। তারাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী যাতে জয়লাভ করেন তার ব্যবস্থা তারা করে দিয়েছে। একই ঘটনা অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘটবে। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপি আর অংশ নেবে কি না সে ব্যাপারে আমাদেরকে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এ ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন হবে।
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আইনি লড়াই সুবিধাজনক নয় উল্লেখ করে ধীরে ধীরে কঠোর কর্মসূচির চিন্তাভাবনা করতে হবে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে নাÑ এটি এখন চলে গেছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিম্ন আদালতের বিচারকদের মাধ্যমে। এসব বিচারক সরকার যা বলবে, তাই করবে। কারণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা সরকারের কাছে। আইনি লড়াই এককভাবে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে সুবিধাজনক হবে না। আইনি লড়াইয়ের সাথে সাথে রাজপথের লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের এখন ধীরে ধীরে কঠোর কর্মসূচির দেয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। ঈদের পর এ বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতে জামিন বহালের পরও খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বের কারণ তুলে ধরে দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে এ আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলী, লক্ষ্মীপুর বিএনপির সহসভাপতি মনির আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা এ দু’টিই নির্ভর করবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এ সরকারের টনক নড়ানো যাবে না। কারণ তারা এতে কোনো সাড়া দেয়নি। বরং উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরো বেশি করে মামলা দিয়েছে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার কারণে।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখেছেন। তার পরও কেনো খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না এটি জানতে হবে দেশবাসীকে। এর কারণ নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে, তারা সরকারের অধীনে কাজ করে। এই আদালত এখন স্বাধীন না। গতকালও দু’টি মামলা দিয়েছে। তারিখ দিয়েছে জুলাই মাসে। আমাদের উচ্চতম আদালত যাকে জামিন দিয়েছেন তাকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। কেন? কারণ সরকারের অপকৌশল ও ষড়যন্ত্র। ওই সব মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত উনাকে আমরা মুক্ত করতে পারব না। তারা চেষ্টা করবে এসব মামলায় আরো লম্বা লম্বা তারিখ দিতে। কারণ এসব ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে এবং রাজপথেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। বর্তমান সঙ্কটের উত্তর রাজপথের মাধ্যমে আমাদের অর্জন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে একটা জিনিস প্রমাণ হয়ে গেছে যে, এই নির্বাচন কমিশন একটি অদক্ষ, অক্ষম, পক্ষপাতদুষ্ট ও দলবাজ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাংলাদেশে কোনো স্বাধীন, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। এ কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে আমরা সত্যিকার অর্থে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন করতে পারি, যারা এই কমিশনের মাধ্যমে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। তাদের সাহস থাকবে, মনোবল থাকবে, দেশপ্রেম থাকবে যাতে আগামীতে একটু সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। সে জন্য এখন আমাদের এটাও চিন্তা করতে হবে যে, এই কমিশনের অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেব কি না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.